চীনে সাত দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় স্বর্ণের মজুদ আবিষ্কার

চীন সাত দশকের বেশি সময় পরে দেশের সবচেয়ে বড় স্বর্ণের মজুদ আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে।

চীন সাত দশকের বেশি সময় পরে দেশের সবচেয়ে বড় স্বর্ণের মজুদ আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। লিয়াওনিং প্রদেশে পাওয়া এ মজুদের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪৪৪ টন। মাত্র ১৫ মাসে এ স্বর্ণের অনুসন্ধান সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর ইউরো নিউজ।

শুক্রবার চীনের মিনিস্ট্রি অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস দাদংগো স্বর্ণের মজুদ আবিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় একক স্বর্ণের খনি আবিষ্কার। দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ খনিতে ২৫ লাখ ৮৬ হাজার টন আকরিক রয়েছে, যার প্রতি টনে গড়ে দশমিক ৫৬ গ্রাম স্বর্ণ রয়েছে। এ হিসাবে মোট স্বর্ণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৪৪৪ টন।

বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, এ পরিমাণ স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ কোটি ইউরোর বেশি। এ বছর স্বর্ণের দাম রেকর্ড গড়ে প্রতি কেজি ১ লাখ ১৫ হাজার ইউরোর ওপরে লেনদেন হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত লিয়াওনিং জিওলজিক্যাল অ্যান্ড মাইনিং গ্রুপ অনুসন্ধান প্রকল্পটি সম্পন্ন করেছে। প্রায় এক হাজার প্রযুক্তিবিদ ও শ্রমিক মোতায়েন করে মাত্র ১৫ মাসে এত বড় খনির অনুসন্ধান শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

মিনিস্ট্রি অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস জানিয়েছে, এটি ‘অনেক বড় খনি’ হলেও আকরিকের ঘনত্ব তুলনামূলক কম। খনিটির প্রাথমিক অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ এখনো সাইটটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেনি, শুধু জানিয়েছে এটি লিয়াওনিংয়ের পূর্বাঞ্চলে। প্রকল্পের কৌশলগত গোপনীয়তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় খনিজ অনুসন্ধান জোরদার করেছে। ২০২৪ সালে দেশটি হুনান প্রদেশে এক হাজার টনের বেশি এবং গানসু প্রদেশে ৪০ টনের বেশি স্বর্ণ আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছিল। ২০২৪ সালে চীন মোট ৩৭৭ দশমিক ২৪ টন স্বর্ণ উত্তোলন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।

দেশটির অভ্যন্তরীণ স্বর্ণ ব্যবহারের পরিমাণ ২০২৪ সালে দাঁড়ায় ৯৮৫ দশমিক ৩১ টন। স্বর্ণের বার ও মুদ্রার চাহিদা বছরে ২৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকরা জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে চীনের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে সম্পদ সুরক্ষায় আগ্রহ বেড়েছে। এ কারণে স্বর্ণ দেশটিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি নিরাপদ ও বিনিয়োগমুখী সম্পদ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

আরও